যোগান (Supply) (৩.৬)

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - অর্থনীতি - উপযোগ, চাহিদা, যোগান ও ভারসাম্য | NCTB BOOK
4.1k
Summary

বাজারে বিক্রির জন্য বিভিন্ন দ্রব্যের উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়, তবে এটি সরবরাহ নয়। অর্থনীতিতে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে এবং দামে বিক্রেতা যে পণ্য বিক্রির জন্য প্রস্তুত থাকে, সেটাকেই যোগান বলে।

যোগান বিধি

বাজারে যখন দ্রব্যের দাম সর্বাধিক হয়, তখন বিক্রেতারা তাদের পণ্য বিক্রির প্রতি আগ্রহী হন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আলুর দাম ১৫ টাকা কেজি হয়, তাহলে বিক্রেতা ২ কুইন্টাল আলু বিক্রি করতে চান; কিন্তু দাম ২০ টাকা কেজি হলে, তারা ৩০ কুইন্টাল আলু সরবরাহ করতে চান। সুতরাং, মূল্য বাড়লে যোগানের পরিমাণ বাড়ে এবং মূল্য কমলে যোগানের পরিমাণ কমে যায়।

দাম ও যোগানের এই সম্পর্ককে যোগান বিধি বলা হয়। যখন দাম পরিবর্তিত হয়, তখন যোগানও পরিবর্তিত হয়। অন্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে, দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যোগানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং দাম হ্রাসের সঙ্গে যোগানের পরিমাণ কমে যায়।

যোগান সূচি

প্রতি একক দ্রব্যের দাম (টাকা) যোগানের পরিমাণ (কুইন্টাল)
১০.০০ টাকা ১০ কুইন্টাল
২০.০০ টাকা ২০ কুইন্টাল
৩০.০০ টাকা ৩০ কুইন্টাল
৪০.০০ টাকা ৪০ কুইন্টাল

সূচিটি নির্দেশ করে যে, দাম ১০ টাকা হলে যোগান ১০ কুইন্টাল, দাম ২০, ৩০ এবং ৪০ টাকায় যথাক্রমে ২০, ৩০ এবং ৪০ কুইন্টাল যোগান থাকে। এইভাবে, যোগান বিধি যোগান সূচিতে প্রতিফলিত হয়।

যোগান রেখা

যোগান রেখা দ্বারা দ্রব্যের দামের পরিবর্তনের সাথে যোগানের পরিমাণের পরিবর্তন দেখানো হয়। দাম বাড়লে যোগান বৃদ্ধি পায় এবং দাম কমলে যোগান কমে।

বাজারে গেলে আমরা দেখবো বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন দ্রব্য নিয়ে বিক্রেতাগণ দোকান সাজিয়ে রেখেছেন । তবে আমরা এটাকেই যোগান বা সরবরাহ বলবো না। অর্থনীতিতে যোগান বলতে একজন বিক্রেতা কোনো একটি দ্রব্যের যে পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সময়ে এবং একটি নির্দিষ্ট দামে বিক্রয় করতে ইচ্ছুক থাকে তাকে যোগান বলে। উল্লেখ্য- একটি দ্রব্য, একটি নির্দিষ্ট সময় ও একটি নির্দিষ্ট দাম এখানে বিবেচ্য । অতএব, উৎপাদক বা বিক্রেতা বিভিন্ন দামে দ্রব্যের যে বিভিন্ন পরিমাণ বিক্রয় করতে ইচ্ছুক, তাকেই অর্থনীতিতে যোগান (Supply) বলে ।


যোগান বিধি


আমরা প্রতিনিয়ত বাজারে জিনিসপত্র ক্রয়-বিক্রয় করে থাকি । একজন বিক্রেতা কখন তার দ্রব্যটি বিক্রয় করতে আগ্রহী হবেন? অবশ্যই ঐ দ্রব্যের দাম যখন বাজারে সবচেয়ে বেশি,তখনই একজন বিক্রেতা তার পণ্য বিক্রয় করতে চাইবেন । ধরি, আলুর কেজি যখন ১৫ টাকা, তখন বিক্রেতা ২ কুইন্টাল আলু বিক্রয় করে । দাম বেড়ে ২০ টাকা কেজি হলে বিক্রেতা বেশি পরিমাণে আলু সরবরাহ করতে চায় । মনে করি, তখন সরবরাহ হবে ৩০ কুইন্টাল । অর্থাৎ দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে দ্রব্যের যোগানের পরিমাণ বাড়ে এবং দাম কমার সাথে সাথে দ্রব্যের যোগানের পরিমাণ কমে যায় । অতএব দাম ও যোগানের সম্পর্ক সমমুখী ।

দাম যেদিকে পরিবর্তিত হয়, যোগানও সেদিকে পরিবর্তিত হয় । অর্থাৎ অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে (যেমন, উপকরণ দাম ও প্রযুক্তি স্থির, স্বাভাবিক সময় বিবেচিত), দাম বৃদ্ধি পেলে যোগানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং দাম হ্রাস পেলে যোগানের পরিমাণ হ্রাস পায় । অর্থাৎ দামের সঙ্গে যোগানের এরূপ প্রত্যক্ষ সম্পর্ককে যোগান বিধি বলে ৷
যোগান সূচি থেকে যোগান রেখা অঙ্কন
দ্রব্যের দাম বাড়লে যোগানের পরিমাণ বাড়ে, দাম কমলে যোগানের পরিমাণ কমে । দাম পরিবর্তনের ফলে যোগানের এ সমমুখী পরিবর্তনকে যোগান সূচিতে দেখানো যায় ।
যোগান সূচির একদিকে দ্রব্যের দাম এবং অন্যদিকে দ্রব্যের যোগানের পরিমাণ দেখানো হলো ।


যোগান সূচি

যোগান রেখা

প্রতি একক দ্রব্যের দাম (টাকা) যোগানের পরিমাণ (কুইন্টাল)
১০.০০ টাকা ১০ কুইন্টাল
২০.০০ টাকা ২০ কুইন্টাল
৩০.০০ টাকা ৩০ কুইন্টাল
৪০.০০ টাকা ৪০ কুইন্টাল



সূচিতে দেখা যায়, কোনো দ্রব্যের প্রতি কুইন্টালের দাম ১০ টাকা হলে তার যোগান হয় ১০ কুইন্টাল । দাম বেড়ে ২০ টাকা, ৩০ টাকা ও ৪০ টাকা হলে যোগানের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ২০ কুইন্টাল, ৩০ কুইন্টাল ও ৪০ কুইন্টাল । এভাবে যোগান সূচিতে যোগান বিধি প্রতিফলিত হয় ।

যোগান রেখা

কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে যোগানের পরিমাণ বাড়ে, দাম কমলে যোগানের পরিমাণ কমে । দাম পরিবর্তনের ফলে যোগানের পরিমাণের এ সমমুখী পরিবর্তনকে যখন রেখাচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়, তখন তাকে যোগান
রেখা বলে ।



 

Content updated By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...